প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেখানে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের খবর নিত্যদিনের বিষয়, সেখানে এক অনন্য সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাজনূভা জাবীন। ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি ভোটার ও সমর্থকদের কাছ থেকে সংগৃহীত নির্বাচনী অনুদানের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তাজনূভা জাবীন জানান, তার নির্বাচনী ফান্ডে মোট ৮,৭৭,১১২ টাকা জমা হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৭ শতাংশ টাকা (প্রায় ৩,৭৭,১৫৮ টাকা) তিনি দাতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিকাশে পাঠানো ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছোট অনুদানগুলো প্রায় সব ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো বড় অংকের টাকা ও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে দাতা শনাক্ত করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দাতাদের সহযোগিতা চেয়ে একটি অনলাইন ফর্ম পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাজনূভা আবেগের সাথে লেখেন, "টাকা ফেরত দিতে গিয়ে অনেকের সাথে কথা হয়েছে। আমি এমন একজনকে পাইনি যারা টাকা ফেরত চেয়েছে, বরং সবাই আমাকে শুভকামনা জানিয়েছেন।"
তাজনূভা জাবীন যে নজির স্থাপন করেছেন, তা বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের বিবর্তনে এক বিশেষ স্থান পাওয়ার দাবি রাখে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের সূচনাকালে রাজনীতি ছিল মূলত বনেদি ও শিক্ষিত সমাজের সেবা। তখন রাজনীতি মানেই ছিল নিজের পকেট থেকে অর্থ খরচ করা। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতাদের সততা ছিল কিংবদন্তীতুল্য।
মুক্তির লড়াই (১৯৫২-১৯৭১): বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ নিজের শেষ সম্বলটুকু বিলিয়ে দিয়েছিল স্বাধীনতার জন্য। তখন অর্থের চেয়ে আদর্শ ছিল অনেক বড়। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত রাজনীতিতে ধীরে ধীরে অর্থ ও পেশিশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটে।
পরিবর্তনের ঢেউ (১৯৯০-২০২৪): নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের দাপট বেড়ে যায়। মনোনয়ন কেনা-বেচা এবং নির্বাচনের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের সংস্কৃতি জেঁকে বসে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এক নতুন নৈতিক চেতনা জাগ্রত করেছে।
নতুন বাংলাদেশ (২০২৫-২০২৬): ২০২৫ সাল জুড়ে চলা রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যই ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে তাজনূভা জাবীনের মতো তরুণ নেত্রীদের এই সততা প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসা শুরু করেছে। যেখানে অতীতের প্রার্থীরা নির্বাচনী টাকা মেরে দেওয়াকে ‘অধিকার’ মনে করতেন, সেখানে তাজনূভা পৈ পৈ করে হিসাব বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাজনূভা জাবীন সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও তার এই নৈতিক অবস্থান তাকে ভবিষ্যতে এক শক্তিশালী নেতৃত্বের আসরে বসাবে। যেখানে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের পলায়ন এবং দুর্নীতির খবর মানুষের মুখে মুখে, সেখানে এনসিপির সাবেক এই নেত্রীর পদক্ষেপ ২০২৬ সালের ভোটারদের কাছে একটি বড় বার্তা—নতুন প্রজন্মের রাজনীতি হবে সততা ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে।
সূত্র: ১. তাজনূভা জাবীনের অফিসিয়াল ফেসবুক স্টেটমেন্ট, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬। ২. এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) এর নির্বাচনী সেল প্রতিবেদন। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক সততা ও বিবর্তনের ইতিহাস (১৯০০-২০২৬): গবেষক বিডিএস বুলবুল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |